ইউরো নোটের নতুন রূপ: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাকি প্রকৃতির ছোঁয়া, বিভক্ত ইউরোপ

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরো নোটের নকশা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মহাদেশীয় পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে বিখ্যাত মনীষী নাকি অরাজনৈতিক প্রাণিকুলকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক জনমত জরিপ।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
02 Aug 2026, 12:45
Updated
02 Aug 2026, 12:45
Reading time
2 min
ইউরো নোটের নতুন রূপ: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাকি প্রকৃতির ছোঁয়া, বিভক্ত ইউরোপ
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • ইউরো নোটের নতুন নকশা নিয়ে ৬০ লাখের বেশি মানুষ জনমত জরিপে অংশ নিয়েছেন।
  • বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক বনাম প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য—এই দুই মেরুতে বিভক্ত প্রস্তাবনা।
  • ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরপেক্ষ স্থাপত্যের বদলে এবার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) তাদের একক মুদ্রা ইউরোর চেহারা বদলে ফেলার এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইউরো নোটগুলোতে নিরপেক্ষ স্থাপত্যকলা ব্যবহার করা হলেও, এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পরিচয়ের এক নতুন প্রতিফলন ঘটাতে চায়। এই পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক নয়, বরং এটি ইউরোপের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নকশার বিষয়বস্তু। একদিকে রয়েছে মারি কুরি, মিগুয়েল ডি সারভান্তেস বা লুডভিগ ভ্যান বেঠোফেনের মতো আইকনিক সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব। এই চিন্তাধারার সমর্থকরা মনে করেন, ইউরোপের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও মেধাবৃত্তিক অর্জনকে মুদ্রার মাধ্যমে সম্মান জানানো উচিত।

অন্যদিকে, একটি বড় অংশ অরাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক থিমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা মনে করেন, পরিযায়ী সারস বা মৌমাছি-ভুক পাখির মতো প্রাণিকুল ইউরোপের উন্মুক্ত সীমান্ত ও মুক্ত চলাচলের প্রকৃত প্রতীক। এই থিমটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাতীয়তাবাদকে উসকে না দিয়ে সমগ্র মহাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরবে।

ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে ইউরোপ জুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জনমত জরিপ শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ তাদের মতামত জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, পকেটে থাকা কাগজের মুদ্রার নকশা কেবল নান্দনিক বিষয় নয়, বরং এটি তাদের আত্মপরিচয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ইসিবি-র জন্য এই সিদ্ধান্তটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা জাতিগোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে পারে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দৃশ্য নির্বাচন করলে তা নিরাপদ হলেও অনুপ্রেরণামূলক হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ইউরোপের ভবিষ্যৎ ঐক্যের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করবে।