নির্বাচন থেকে কালো টাকা নির্মূল করা কমিশনের দায়িত্ব: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে নির্বাচনে অবৈধ অর্থের প্রভাব মুক্ত রাখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আদালত মনে করে, অর্থের বিনিময়ে ভোটারের সিদ্ধান্ত আর স্বাধীন থাকে না।

এক নজরে
- ভোটারদের স্বাধীন ইচ্ছার ওপর কালো টাকার প্রভাব গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ অর্থের ব্যবহার রোধে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
- আর্থিক প্রলোভন বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ভোটারের বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে।
ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলুষমুক্ত করতে বড় ধরণের নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) মৌলিক দায়িত্ব।
আদালত তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে যে, যখনই নির্বাচনে অবৈধ অর্থ বা 'ব্ল্যাক মানি'র অনুপ্রবেশ ঘটে, তখনই একজন নাগরিকের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থের বিনিময়ে বা কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে প্রভাবিত হয়ে দেওয়া ভোট প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটায় না।
বিচারপতিদের মতে, আর্থিক প্রলোভন বা বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরণের অপতৎপরতা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। তাই নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে কোনো প্রার্থীর আর্থিক ক্ষমতা ভোটারের বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করতে না পারে।
পরিশেষে, আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হলে কেবল ভোট গ্রহণ করলেই চলবে না, বরং নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে অর্থের ঝনঝনানি বন্ধ করতে কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং কমিশনের একটি অপরিহার্য সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।
