রাজকীয় সম্পত্তির উত্তরাধিকার: বিশেষ আইনি সুরক্ষা বহাল রাখল কর্নাটক হাইকোর্ট
প্রিভি পার্স এবং রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা বিলুপ্ত হলেও নির্দিষ্ট কিছু রাজকীয় সম্পত্তির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইনের বিশেষ সুরক্ষা এখনও কার্যকর বলে রায় দিয়েছে কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালতের মতে, প্রথাগত প্রেক্ষাপটে এসবের গুরুত্ব এখনও বিদ্যমান।

এক নজরে
- প্রিভি পার্স বিলুপ্ত হলেও রাজকীয় সম্পত্তির প্রথাগত সুরক্ষা বজায় থাকবে বলে রায় কর্নাটক হাইকোর্টের।
- হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের বিশেষ বিধানগুলো নির্দিষ্ট রাজকীয় এস্টেটের ক্ষেত্রে এখনও কার্যকর।
- আনুষ্ঠানিক সিংহাসন বা 'গদি' প্রথাগতভাবে এখনও একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
কর্নাটক হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা এবং প্রিভি পার্স বিলুপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু রাজকীয় সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিশেষ উত্তরাধিকার সুরক্ষার প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, 'গদি' বা আনুষ্ঠানিক সিংহাসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব হ্রাস পেলেও প্রথাগত এবং ব্যবহারিক দিক থেকে এটি এখনও তাৎপর্যপূর্ণ।
বিচারপতিদের মতে, হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের আওতায় থাকা নির্দিষ্ট কিছু ছাড় এখনও সেইসব রাজকীয় পরিবারের জন্য প্রযোজ্য যারা ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট প্রথা অনুসরণ করে আসছে। যদিও আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোয় রাজতন্ত্রের কোনো স্থান নেই, কিন্তু পারিবারিক উত্তরসূরি নির্ধারণে এই বিশেষ বিধানগুলো আইনি বৈধতা হারায়নি।
মামলার শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, উত্তরাধিকার আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত কিছু রাজকীয় সম্পত্তির হস্তান্তর সাধারণ আইনের পরিবর্তে বিশেষ প্রথা অনুযায়ী পরিচালিত হতে পারে। এই রায়টি মূলত মহীশূর বা সংশ্লিষ্ট রাজকীয় এস্টেটগুলোর দীর্ঘকালীন আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, যদিও ১৯৭১ সালে সংবিধানের ২৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাজন্য ভাতা বন্ধ করা হয়েছিল, তবুও ব্যক্তিগত সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রথাগত অধিকারগুলো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। বিশেষ করে যেখানে ভারত সরকারের সাথে একীভূতকরণের সময় বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেখানে আইনি জটিলতা নিরসনে এই রায় দিকনির্দেশনা দেবে।
