হাল্যান্ডের জোড়া গোল: ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে
আর্লিং হাল্যান্ডের শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিল সেলেসাওরা।

এক নজরে
- আর্লিং হাল্যান্ডের শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে নরওয়ে।
- ৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল।
- ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমবার পেনাল্টি মিস করার নজির গড়ল সেলেসাওরা।
রবিবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল। আর্লিং হাল্যান্ডের দুর্দান্ত দুটি গোলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে নরওয়ে। খেলার শেষার্ধে হাল্যান্ডের জোড়া আঘাত সামলাতে ব্যর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম সেরা দলটি।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। ব্রাজিল প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়নি। পাল্টা আক্রমণে নরওয়েও নিয়মিত বিরতিতে পরীক্ষা নিচ্ছিল ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষকের। দুই দলের লড়াই তখন সমানে সমান মনে হলেও শেষের নাট্যমঞ্চ সাজিয়ে রেখেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা হাল্যান্ড।
ব্রাজিলের জন্য এদিনটি ছিল চরম হতাশাজনক। খেলায় একটি পেনাল্টি পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা, যা ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম পেনাল্টি মিসের ঘটনা। এই মিস যেন তাদের ভাগ্যের লিখন লিখে দিয়েছিল। সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে দ্রুত বিদায় নিয়ে। ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এত দ্রুত বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো ব্রাজিলের।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে হাল্যান্ডের প্রথম গোলটি নরওয়েকে লিড এনে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ২-১ ব্যবধানের এই জয় নরওয়েজিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। প্রথমবারের মতো শেষ আটে ওঠার আনন্দে ভাসছে এখন ওসলো থেকে ট্রন্ডহেইম।
ব্রাজিলের মতো ফেভারিট দলের বিদায় কাতার বা আগের বিশ্বকাপগুলোর মতোই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, নরওয়ের এই উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তির আগমনের। এখন সবার নজর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে নিজেদের এই ধারা কতদূর বজায় রাখতে পারে তার ওপর।
