হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বজায় রাখা কি ইরানের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দীর্ঘদিনের একছত্র নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তির কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

এক নজরে
- বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই জলপথে ইরানের কৌশলগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
- উপসাগরীয় দেশগুলোর বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণ ইরানের অবরোধের ক্ষমতা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
- উন্নত ড্রোন এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ইরানের নৌ-সামরিক সুবিধা কমিয়ে দিচ্ছে।
পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালী কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আসছে, যা দেশটিকে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে একটি বড় দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে ইরানের এই কৌশলগত সুবিধা কিছুটা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। পশ্চিমা সামরিক জোট এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ইরানের নৌ-তৎপরতাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ করে তুলেছে। ড্রোন প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে এখন প্রণালীর প্রতিটি গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে।
তেহরানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিকল্প তেলের পাইপলাইন নির্মাণ। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে তেল রপ্তানির নতুন পথ তৈরি করছে। এটি ইরানের দীর্ঘদিনের 'তেল অবরোধ' করার হুমকিকে অনেকটা গুরুত্বহীন করে তুলছে।
অভ্যন্তরীণভাবেও ইরান অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মুদ্রা আমদানির সীমাবদ্ধতা দেশটিকে তার নৌ-বাহিনীকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের দেশীয় প্রযুক্তি শত্রুর মোকাবিলায় সক্ষম, বিশ্লেষকরা এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব অবশ্য এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই বারবার আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে অভ্যন্তরীণ শক্তির পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখা সম্ভব।
আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে শক্তির এই ভারসাম্য কোন দিকে মোড় নেয়, তাই এখন দেখার বিষয়। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবর্তিত জোট ইরানের এই জলপথে 'এজ' বা বাড়তি সুবিধা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।
