বেঙ্গালুরুতে জমি মাফিয়াদের দাপট ও আইন লঙ্ঘন নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি
বেঙ্গালুরুর আবাসন ও জমি উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের অবৈধ হস্তক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসনিক আইনকে অপব্যবহার করা হচ্ছে।

এক নজরে
- বেঙ্গালুরুতে জমি দখল ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের উদ্বেগ।
- ভূমি মাফিয়াদের স্বার্থে প্রশাসনিক আইন পরিবর্তনের অভিযোগ।
- অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ রুখতে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ।
কর্ণাটক হাইকোর্ট সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর রিয়েল এস্টেট খাতের অসাধু চক্র বা 'ল্যান্ড শার্ক'দের প্রভাব নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। আদালতের মতে, এই চক্রগুলো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে আইনকে নিজেদের মতো করে বাঁকিয়ে নিচ্ছে।
বিচারপতিদের বেঞ্চ একটি মামলার শুনানির সময় উল্লেখ করেন যে, শহরের পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে এই ভূমি মাফিয়ারা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি জমি দখল থেকে শুরু করে বিধি বহির্ভূতভাবে অনুমোদন আদায়—সবখানেই এদের দাপট পরিলক্ষিত হচ্ছে। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তারা এই মাফিয়াদের সাথে যোগসাজশে লিপ্ত থাকেন। এর ফলে সংরক্ষিত জমি বা সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে বেঙ্গালুরুর নগর কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন ভূমি রক্ষা আইন কঠোরভাবে বলবৎ করা হয়। বিশেষ করে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপে আইন পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করতে বিচার বিভাগীয় নজরদারি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র বিচারিক প্রক্রিয়া নয়, বরং জনস্বার্থ রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে আদালত।
