অটিজম সেবায় জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বড় বাধার মুখে পরিবারগুলো
ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার (আইএসি) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবার ওপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, বর্তমান কর ব্যবস্থা পরিবারগুলোর ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি করছে।

এক নজরে
- থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবার ওপর ১৮% পর্যন্ত জিএসটি প্রত্যাহারের আবেদন।
- অক্ষমতার তীব্রতার বদলে সেবার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে কর ছাড়ের প্রস্তাব।
- আর্থিক বোঝা কমিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মূলধারায় ফেরানোর লক্ষ্য।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মানসম্মত থেরাপি এবং পুনর্বাসন সেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে ভারত সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার (আইএসি)। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, অটিজম এবং অন্যান্য নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সেবার ওপর কর আরোপ করা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি বড় অন্তরায়।
বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক বিশেষায়িত সেবার ওপর পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) ধার্য রয়েছে। আইএসি-র মতে, এই করের ফলে চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সংস্থাটি এই কর ব্যবস্থাকে বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে।
শ্বেতপত্রটিতে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির প্রতিবন্ধকতার মাত্রা বা তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে কর ছাড় না দিয়ে, বরং সেবার ধরণের ওপর ভিত্তি করে জিএসটি মওকুফ করা উচিত। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক অক্ষমতার শতাংশের ওপর ভিত্তি করে সুবিধা দেওয়া হয়, যা অনেক অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ নয়।
আইএসি জোর দিয়ে বলেছে যে, পুনর্বাসন সেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি মৌলিক অধিকারের অংশ। করের বোঝা কমানো হলে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বাসন শিল্পে নতুন বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনকেও উৎসাহিত করতে পারে।
