স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘বুদ্ধিজীবী নকশালদের’ বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোদী

ভারতের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সশস্ত্র নকশাল আন্দোলনের পরিবর্তে এখন তাদের আদর্শিক সমর্থকদের দেশের নিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
15 Aug 2026, 18:31
Updated
15 Aug 2026, 18:31
Reading time
2 min
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘বুদ্ধিজীবী নকশালদের’ বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মোদী
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • সশস্ত্র নকশাল বিদ্রোহ প্রায় শেষ হলেও নতুন হুমকি এখন ‘আদর্শিক নকশালরা’।
  • তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার জন্য বুদ্ধিজীবী মহলের একটি অংশকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী।
  • দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, মাওবাদী ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত সশস্ত্র নকশাল বিদ্রোহ দেশ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে গেলেও, এখন তাদের 'আদর্শিক প্রচারক' বা 'বুদ্ধিজীবী নকশালরা' বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লাল কেল্লার প্রাকার থেকে দেওয়া এই দীর্ঘ বক্তব্যে মোদী বলেন, বন্দুকধারী বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করা সহজ হলেও যারা কলম ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। তিনি অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠীগুলো দেশের ঐক্য ও সংহতির বিরুদ্ধে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক বছরে ভারত মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবী নকশালরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই বক্তব্য ভারতের ভিন্নমতাবলম্বী বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীদের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে। বিরোধীরা প্রায়ই সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে যে, সমালোচকদের দমনে 'নকশাল' তকমা ব্যবহার করা হচ্ছে।

মোদী সরকার আগামী দিনে এই 'আদর্শিক হুমকি' মোকাবিলায় কঠোর আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্বাধীনতা দিবসের এই ভাষণটি ভারতের আগামী দিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলের একটি রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।