পাকিস্তানের সরকারি ব্যয়ে তীব্র বৈষম্য: বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে আর্থিক বিশৃঙ্খলার চিত্র

পাকিস্তানের বিকেন্দ্রীকরণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লাহোর ও কোয়েটার মতো প্রাদেশিক শহরগুলো বিপুল অর্থ পেলেও অনুন্নত অঞ্চলগুলো চরম অবহেলার শিকার হচ্ছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
05 Jul 2026, 16:16
Updated
05 Jul 2026, 16:16
Reading time
2 min
পাকিস্তানের সরকারি ব্যয়ে তীব্র বৈষম্য: বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে আর্থিক বিশৃঙ্খলার চিত্র
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • লাহোর ও কোয়েটার মতো বড় শহরগুলোয় মাথাপিছু সরকারি ব্যয় প্রান্তিক অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশি।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ দেশিটি।
  • অডিট রিপোর্টে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অর্থের বন্টন এবং ব্যয় প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটির আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ নীতি আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিশেষ করে প্রাদেশিক রাজধানী এবং প্রান্তিক জেলাগুলোর মধ্যে মাথাপিছু ব্যয়ের হারে আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লাহোর এবং কোয়েটার মতো প্রভাবশালী শহরগুলো তাদের স্ব-স্ব প্রদেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি সরকারি বরাদ্দ পাচ্ছে। এই কাঠামোগত অসামঞ্জস্যের ফলে ছোট শহর ও পল্লী অঞ্চলগুলো প্রয়োজনীয় উন্নয়ন তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ব ব্যাংক আরও সতর্ক করেছে যে, পাকিস্তান শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও তার ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়। জনসেবামূলক খাতগুলোতে বিনিয়োগের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না। অডিট রিপোর্টে ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের তথ্যও উঠে এসেছে, যা সুশাসনের অভাবকে নির্দেশ করে।

সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে যে, কেবল বাজেট বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরং ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, কিছু অঞ্চলে বাজেটের উদ্বৃত্ত থাকলেও দেশের দরিদ্রতম এলাকাগুলোতে অবকাঠামো এবং মৌলিক সেবার চরম সংকট বজায় থাকবে। উন্নয়নের এই ভারসাম্যহীনতা পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।