ইথিওপিয়ার বায়ুদূষণ নিয়ে নাসার দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বায়ুদূষণ ও ব্ল্যাক কার্বনের প্রভাব নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে নাসা। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরটির বাতাসের মান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য মানদণ্ডের তুলনায় তিনগুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
18 Aug 2026, 02:15
Updated
18 Aug 2026, 02:15
Reading time
2 min
ইথিওপিয়ার বায়ুদূষণ নিয়ে নাসার দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য
বিজ্ঞান · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • আদ্দিস আবাবার বায়ুদূষণ মার্কিন স্বাস্থ্য মানদণ্ডের চেয়ে তিন গুণ বেশি।
  • শহরটিতে ব্ল্যাক কার্বনের মাত্রা মার্কিন মহানগরীগুলোর তুলনায় ৯ গুণ পর্যন্ত বেশি।
  • ইথিওপিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি চালিত ইঞ্জিনের গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বায়ুদূষণের মাত্রা এবং এর কারণগুলো নিয়ে পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির মাল্টি-অ্যাঙ্গেল ইমেজার ফর অ্যারোসলস (MAIA) প্রকল্পের অধীনে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডিজেল চালিত যানবাহন এবং আগুনের ধোঁয়া থেকে উৎপন্ন ব্ল্যাক কার্বন বা ভুসকালি শহরটির বাতাসের মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, আদ্দিস আবাবায় পিএম ২.৫ (PM2.5) বা অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রাম। এই মাত্রা মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (EPA) নির্ধারিত স্বাস্থ্যকর সীমার চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে যানজটের সময় এবং বিভিন্ন উৎসবের দিনগুলোতে দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, আদ্দিস আবাবায় ব্ল্যাক কার্বনের মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোর তুলনায় ৪ থেকে ৯ গুণ বেশি। ব্ল্যাক কার্বন মূলত পিএম ২.৫ এর একটি অংশ, যা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইএসঅ্যান্ডটি: এয়ার (ES&T: Air) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটিই সম্ভবত ইথিওপিয়ায় পরিচালিত এ ধরনের প্রথম দীর্ঘমেয়াদী বিশ্লেষণ।

বায়ুমান উন্নত করতে ইথিওপিয়া ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে দেশটি বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনের (ICE) গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহনের পরিকাঠামো তৈরি এবং সাইকেল লেনের বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে তারা দূষণ কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। নাসার এই গবেষণা শহরটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিবর্তন মূল্যায়নের জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

নাসার এমএআইএ (MAIA) প্রকল্পটি বর্তমানে আটলান্টা, বোস্টন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিশ্বের ১২টি মহানগরীতে বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ করছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে একটি বিশেষ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি মহাকাশ থেকে সূক্ষ্ম ধূলিকণা শনাক্ত করে বায়ুর গুণগত মান আরও নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবে।