যমজ সন্তান কীভাবে হয়: ভ্রূণ গঠন ও লিঙ্গ নির্ধারণের নেপথ্য বিজ্ঞান
যমজ সন্তানের লিঙ্গ এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য কীভাবে নির্ধারিত হয় তা নির্ভর করে মাতৃগর্ভে ডিম্বাণু নিষিক্তকরণের বিশেষ প্রক্রিয়ার ওপর। ভিন্ন ভিন্ন শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন অথবা একটি ভ্রূণের বিভাজনই নির্ধারণ করে যমজদের ধরণ।

এক নজরে
- দুটি ভিন্ন ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে যমজদের লিঙ্গ ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- একটি নিষিক্ত ভ্রূণ দ্বিধাবিভক্ত হলে সমজাতীয় বা আইডেন্টিকাল যমজ হয়।
- সিয়ামিজ শিশুদের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং চেহারা হুবহু এক থাকে।
প্রকৃতিতে যমজ সন্তানের জন্মের ঘটনা বিরল হলেও এটি মৌলিক জীববিজ্ঞানের একটি চমৎকার উদাহরণ। সাধারণত প্রতি মাসে মায়ের ডিম্বকোষ থেকে একটি ডিম্বাণু নির্গত হয়, যা বাবার শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়ে একটি সন্তান জন্ম দেয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে যখন দুটি ভিন্ন ডিম্বাণু ও দুটি ভিন্ন শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তখন দ্বৈত গর্ভধারণ ঘটে।
এই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া যমজ সন্তানদের লিঙ্গ আলাদা হতে পারে। অর্থাৎ একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আবার তারা উভয়ই ছেলে বা উভয়ই মেয়েও হতে পারে। যেহেতু তারা ভিন্ন দুটি ডিম্বাণু ও শুক্রাণু থেকে আসে, তাই তাদের শারীরিক এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কিছুটা তফাত পরিলক্ষিত হয়।
অন্যদিকে, সমজাতীয় বা আইডেন্টিকাল যমজদের জন্মপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। যখন একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু ভ্রূণ গঠনের শুরুর দিকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন তারা একই উৎস থেকে বাড়তে থাকে। এই ধরনের যমজরা সর্বদা একই লিঙ্গের (উভয়ই ছেলে বা উভয়ই মেয়ে) হয়ে থাকে।
সমজাতীয় যমজদের জিনগত বৈশিষ্ট্য হুবহু এক হয় এবং তারা দেখতেও অবিকল একই রকম হয়। এদের একটি বিশেষ স্তরকে সিয়ামিজ শিশু বলা হয়, যাদের শরীর কখনো কখনো জন্মের সময় একে অপরের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। পরবর্তীতে আধুনিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের অনেক ক্ষেত্রে আলাদা করা সম্ভব হয়।
