নাগ পঞ্চমী উপলক্ষে কর্ণাটকে জ্যান্ত বিচ্ছু নিয়ে অন্যরকম উৎসব পালন
ভারতের কর্ণাটকের একটি গ্রামে প্রতি বছর নাগ পঞ্চমী উপলক্ষে দেখা যায় এক বিস্ময়কর দৃশ্য। বিষাক্ত বিচ্ছুকে শরীরের ওপর ছেড়ে দিয়ে উৎসবে মাতেন গ্রামবাসী, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তারা কোনো আঘাতের ভয় করেন না।

এক নজরে
- ভারতের কর্ণাটকের একটি গ্রামে নাগ পঞ্চমী উপলক্ষে বিচ্ছু নিয়ে উৎসব পালিত হয়।
- স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে দেবী কোন্ডাম্মাইয়ের সুরক্ষায় বিচ্ছুরা হুল ফোটায় না।
- শত শত বিষাক্ত বিচ্ছুকে হাতের তালু বা মাথায় নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ভক্তরা।
ভারতের কর্ণাটক অঙ্গরাজ্যের একটি নিভৃত গ্রামে নাগ পঞ্চমী উৎসবকে ঘিরে এক অভিনব ও রোমাঞ্চকর ঐতিহ্য পালিত হয়ে আসছে। দি হিন্দু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে স্থানীয়রা জ্যান্ত বিচ্ছু নিয়ে খেলায় মত্ত হন, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ভীতিজাগানিয়া মনে হতে পারে।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, দেবীর আশীর্বাদে এই বিশেষ তিথিতে বিচ্ছুরা তাদের হুল ফোটায় না। উৎসবের সময় শত শত বিচ্ছু টিলার চারপাশ থেকে বেরিয়ে আসে এবং ভক্তরা সেগুলোকে হাতে নিয়ে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে রেখে আনন্দ প্রকাশ করেন।
হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পঞ্চমী তিথিতে এই আরাধনা করা হয়। মূলত দেবী কোন্ডাম্মাই-এর প্রতি উৎসর্গকৃত এই মন্দিরে প্রার্থনা করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। ভক্তদের দাবি, দেবী তাদের রক্ষা করেন এবং আজ পর্যন্ত বিচ্ছুর কামড়ে কেউ আহত হননি।
যদিও বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদীরা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে থাকেন, তবুও এই গ্রামটির দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্বাস অটুট রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেই প্রতি বছর এই ধর্মীয় আচার পালিত হয়ে আসছে, যা ভারতের বৈচিত্র্যময় লোকজ সংস্কৃতির এক অন্যন্য উদাহরণ।
