দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা জোট কমাচ্ছেন ট্রাম্প, তীব্র সমালোচনা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের
ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের সামরিক জোট কাটছাঁট করার ঘোষণাকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। পেন্টাগনকে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এক নজরে
- দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ৭৩ বছরের পুরনো সামরিক জোট খর্ব করার নির্দেশ ট্রাম্পের।
- কিম জং উনের সাথে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা।
- মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ৭৩ বছরের পুরোনো সামরিক সম্পর্ক খর্ব করার এক আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষার কয়েকদিন পরেই পেন্টাগনকে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে 'অসার' ও 'অদূরদর্শী' বলে উল্লেখ করেছেন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। তাদের মতে, সিউলের সাথে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দুর্বল হলে তা এশীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। বিশেষ করে যখন উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত পারমাণবিক হুমকি দিয়ে আসছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের সাথে তার ‘চমৎকার সম্পর্কের’ দোহাই দিয়েছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ কিম জং উনকে তুষ্ট করার একটি বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি মূলত উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসককে উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনপ্রণেতারা আরও সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতি কেবল এশিয়ায় নয়, বরং ইউরোপেও প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অসংলগ্ন সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে পারে। মিত্রদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেন্টাগন বর্তমানে হোয়াইট হাউসের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সিউল বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
