ইস্টার বোমা হামলা রুখতে ব্যর্থতা: শ্রীলঙ্কায় দুই সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে বোমা হামলা ঠেকাতে গাফিলতির অভিযোগে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত সাবেক আইজিপি এবং প্রতিরক্ষা সচিবকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

এক নজরে
- সাবেক আইজিপি ও প্রতিরক্ষা সচিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- গোয়েন্দা সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ।
- ২০১৯ সালের হামলায় ২৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিচারিক রায়ে দেশটির দুই শীর্ষ সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কলম্বোর একটি বিশেষ আদালত ২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে সিরিজ বোমা হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে এই দণ্ড ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পুজিথ জয়সুন্দরা এবং সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দো।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই কর্মকর্তারা আসন্ন হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া সত্ত্বেও তা ঠেকাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাদের এই চরম গাফিলতি কয়েকশ মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিচারক মন্তব্য করেন। দেশটির ইতিহাসে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার দায়ে এমন কঠোর সাজা দেওয়ার ঘটনা বিরল।
২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব ইস্টার সানডের সকালে কলম্বোর তিনটি গির্জা এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। ওই নারকীয় হামলায় বিদেশিসহ প্রায় ২৭০ জন মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ৫০০ জন। হামলার পরপরই দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
উল্লেখ্য যে, শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সালের পর থেকে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়টি প্রতীকী হতে পারে অথবা দীর্ঘস্থায়ী আপিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। তবে এই রায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
