রাশিয়া ও ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও মিসাইল হামলা, ১৯ জনের মৃত্যু
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আকাশপথে হামলার ঘটনায় গত রবিবার অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের একটি বইয়ের বাজার ধ্বংস হওয়া ছাড়াও মস্কো যুদ্ধের শুরু থেকে অন্যতম বড় হামলার সম্মুখীন হয়েছে।

এক নজরে
- রবিবার উভয় দেশের হামলায় মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
- কিয়েভের একটি বইয়ের বাজার মিসাইল হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
- মস্কো যুদ্ধের শুরু থেকে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার সম্মুখীন হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। গত রবিবার উভয় দেশে পরিচালিত ড্রোন এবং মিসাইল হামলায় অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই হামলায় কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক বইয়ের বাজার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা ইউক্রেনীয় সংস্কৃতির ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোও বড় ধরনের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মস্কোতে চালানো হামলার মধ্যে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি।
গত কয়েক মাস ধরে উভয় পক্ষই দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসন এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় এবং রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে এই পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে যে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করছে, যদিও বাস্তবে বেসামরিক এলাকায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহল এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘাত নিরসনে বারবার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বরং শীতকালীন পরিস্থিতির আগে হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আজকাল-এর সম্পাদকীয় বিভাগ লক্ষ্য করেছে যে, ড্রোন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এই যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। এখন উভয় দেশই শত্রু সীমানার গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম, যা যুদ্ধের ময়দানকে প্রথাগত সম্মুখ সমর থেকে দূরে সরিয়ে আনছে।
