ফ্রান্সে সহায়তা মৃত্যুর স্বীকৃতি মিললেও বাতিল হলো অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা
ফ্রান্সের সাংবিধানিক আদালত প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রস্তাবিত সহায়তা মৃত্যু বা 'অ্যাসিস্টেড ডাইং' বিলটি বহাল রাখলেও ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল করেছে।

এক নজরে
- চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুবরণের আইনি অধিকার বহাল রেখেছে ফ্রান্সের সাংবিধানিক আদালত।
- ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়েছে।
- আদালতের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মৌলিক স্বাধীনতার ওপর চরম হস্তক্ষেপ।
ফ্রান্সের শাসনতান্ত্রিক আদালত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি সিদ্ধান্তের বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রশাসনের প্রস্তাবিত 'অ্যাসিস্টেড ডাইং' বা চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুবরণের অধিকার সংক্রান্ত আইনটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আইনি পর্ষদ। এই সিদ্ধান্তের ফলে মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আইনি পথ প্রশস্ত হলো, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল।
তবে একই দিনে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভিন্ন রায় দিয়েছে আদালত। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের যে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব সরকার করেছিল, তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। আদালত মনে করছে, এই ধরণের কঠোর বিধি নিষেধ শিশুদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং তা সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও যেভাবে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই রায়ের ফলে ম্যাক্রোঁ সরকারকে এখন এই বিলটি সংশোধন বা নতুন কোনো উপায় নিয়ে কাজ করতে হবে যেখানে স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষা হবে।
বিদেশের মাটিতে মানবাধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার এমন দ্বিমুখী লড়াই এখন ফরাসি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে সরকার জয়ী হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা বা স্বাধীনতার প্রশ্নে নতুন আইনি জটিলতার মুখে পড়লো প্রশাসন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স সীমা নির্ধারণ নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে বিতর্ক চলছে, ফ্রান্সের এই আদালতের রায় তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

