ভারতে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের সংকটে বুকের দুধ খাওয়ানোর নিম্নমুখী হার
জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য জরিপ-৬ (NFHS-6) এর নতুন তথ্যে দেখা গেছে যে ভারতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব ও নারী ক্ষমতায়ন বাড়লেও নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

এক নজরে
- NFHS-6 এর তথ্যে ভারতে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং বা শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর হারে অবনতি দেখা গেছে।
- প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের উন্নত পরিসংখ্যান থাকা সত্ত্বেও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে ঘাটতি রয়েছে।
- কর্মক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সীমাবদ্ধতা এই হ্রাসের প্রধান কারণ।
ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও নারী অধিকারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসলেও মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এনএফএইচএস-৬ (NFHS-6) এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর (Exclusive Breastfeeding) হার আগের চেয়ে কমেছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের সংখ্যা বাড়তে থাকা সত্ত্বেও এই নিম্নমুখী প্রবণতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের পেছনে বহুমুখী কারণ রয়েছে যার মধ্যে প্রসব-পরবর্তী সহায়তা বা পোস্টন্যাটাল সাপোর্টের অভাব অন্যতম। অনেক হাসপাতালে জন্ম দেওয়ার পরও স্তন্যদান শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা মায়েরা পাচ্ছেন না। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ফর্মুলা মিল্ক বা বিকল্প শিশুখাদ্যের আগ্রাসী বাজারজাতকরণও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে কর্মজীবী নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মক্ষেত্রে স্তন্যদানের জন্য উপযুক্ত সময় বা পরিবেশের অভাব এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সীমাবদ্ধতা অনেক মাকে দ্রুত কৃত্রিম খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য করছে। বর্তমান শ্রম আইন অনুযায়ী যে পরিমাণ মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাওয়ার কথা, তা অনেক ক্ষেত্রেই অসংগঠিত খাতের নারীরা পাচ্ছেন না।
সামাজিক ও চিকিৎসাগত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র প্রসবকালীন সুবিধা বাড়ালেই হবে না, বরং প্রসবের পরের মাসগুলোতে মা ও শিশুর নিরবচ্ছিন্ন পুষ্টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
