তাইওয়ান ঘিরে চীনের সম্ভাব্য রণকৌশল: হরমুজ প্রণালীর আদলে কি অবরোধের পরিকল্পনা?
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক কৌশল সাজাচ্ছে চীন। সরাসরি আক্রমণের চেয়ে সমুদ্রপথ অবরোধের মাধ্যমে দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাবনা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

এক নজরে
- চীন সরাসরি যুদ্ধের বদলে হরমুজ প্রণালীর মতো অবরোধ কৌশল গ্রহণ করতে পারে।
- ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থেকে নতুন সামরিক ছক সাজাচ্ছে বেইজিং।
- সমুদ্রপথ বিচ্ছিন্ন হলে তাইওয়ানের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তাইওয়ানের ওপর সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসনের ঝুঁকি কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সমরবিদদের ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন হয়তো সরাসরি স্থল অভিযানের পরিবর্তে ইরানের হরমুজ প্রণালী কৌশলের আদলে তাইওয়ানকে সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।
ইরান যেভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে, বেইজিং ঠিক একইভাবে তাইওয়ান প্রণালীতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। এতে করে তাইওয়ানের সাথে বিশ্বের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে একটি অঞ্চলকে পঙ্গু করে দেওয়ার এই পদ্ধতি আধুনিক যুদ্ধকৌশলে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত।
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চীনের বিমান ও নৌবাহিনীর বড় ধরণের হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তবে নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ সামাল দেওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। খাদ্য, জ্বালানি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে তাইওয়ান অনেকাংশেই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল, যা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক সীমাবদ্ধতা দেখে চীন তাদের রণকৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে। দ্রুত বিজয়ের নিশ্চয়তা না থাকলে চীন হয়তো অবরোধের মাধ্যমে তাইওয়ানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার পথ বেছে নেবে। এই পরিস্থিতির ওপর এখন কড়া নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্ররা, কারণ এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
