অ্যামাজনের আকর্ষণীয় চাকরি ছেড়ে ট্যাক্সি চালক: হায়দ্রাবাদের এক যুবকের ব্যতিক্রমী জীবন

কর্পোরেট জগতের ইঁদুর দৌড় থেকে মুক্তি পেয়ে সুখ খুঁজে পেতে হায়দ্রাবাদের এক যুবক অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে পেশাদার রাইড-শেয়ারিং চালক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। জীবন ও জীবিকার এই নতুন দর্শনের গল্পটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 07:15
Updated
06 Jul 2026, 07:15
Reading time
2 min
অ্যামাজনের আকর্ষণীয় চাকরি ছেড়ে ট্যাক্সি চালক: হায়দ্রাবাদের এক যুবকের ব্যতিক্রমী জীবন
অর্থনীতি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • অ্যামাজনের কর্পোরেট পদ ছেড়ে উবার চালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন এক হায়দ্রাবাদি যুবক।
  • ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩,৬০০ বারের বেশি রাইড সম্পন্ন করেছেন তিনি।
  • ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং প্রতিদিন নতুন মানুষের সাথে মেশার সুযোগকেই তিনি সুখের চাবিকাঠি মনে করেন।

ভারতের প্রযুক্তি শহর হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা এক যুবক প্রচলিত কর্পোরেট ক্যারিয়ারের ধারা পাল্টে সমাজতত্ত্বের এক নতুন দিগন্ত তুলে ধরেছেন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের উচ্চপদে থাকাকালীন তিনি অনুভব করেন যে, চার দেয়ালের ভেতরে বসে ল্যাপটপের পেছনে সময় ব্যয় করে তিনি জীবনের আসল মানে খুঁজে পাচ্ছেন না। জীবনকে সরাসরি মানুষের মাঝে দেখার তাগিদে তিনি সেই সম্মানজনক চাকরিটি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে তিনি ওলা-উবার বা রাইড-শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে পুরো সময় একটি ট্যাক্সি পরিচালনা করেন। ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৩,৬০০ বারের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছেন। তার কাছে এই পেশাটি কেবল আয়ের মাধ্যম নয়, বরং শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার একটি বড় মাধ্যম।

তিনি মনে করেন যে, প্রতিদিন শত শত নতুন মানুষের সাথে কথা বলা এবং তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার অংশ হওয়া তাকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। প্রচলিত নয়টা-পাঁচটার ডেস্কে কাজ করার তুলনায় তিনি এই স্বাধীন জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তার মতে, অফিসের চাপের থেকে রাস্তার ধুলোবালি এবং মানুষের কোলাহলে তিনি অনেক বেশি চনমনে থাকেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই পরিবর্তনের কথা ছড়িয়ে পড়লে অনেক নেটিজেন তাকে শুভকামনা জানিয়েছেন। যেখানে বর্তমান সময়ে মানুষ একটি স্থিতিশীল চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে, সেখানে নিজের ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য এমন সাহসী সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই গল্পটি বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা যে, দিনশেষে মানসিক শান্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।