স্পেনীয় এনক্লেভ সেউটাতে অভিবাসন সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে
মরক্কো সীমান্ত দিয়ে কয়েক দিনে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন অনুপ্রবেশের পর স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউটাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এক নজরে
- সেউটাতে প্রবেশ করা ৬০ হাজার অভিবাসীর অধিকাংশ এলাকা ত্যাগ করেছেন।
- সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
- স্পেন সীমান্ত নিরাপত্তায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ নতুন প্রাচীর নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।
মরক্কোর সীমান্তবর্তী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান এনক্লেভ সেউটাতে সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকট নিরসনের পথে রয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত কয়েক দিনে নজিরবিহীনভাবে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী এই ছোট ভূখণ্ডটিতে প্রবেশ করলে সেখানে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শনিবারের মধ্যে তাদের বেশিরভাগই এলাকাটি ত্যাগ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে শোচনীয় করে তুলেছে। সমুদ্রপথে এবং সীমানা প্রাচীর টপকে প্রবেশের চেষ্টাকালে অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মানবিক বিপর্যয় ইউরোপের সীমান্ত নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ভবিষ্যতে এই ধরণের গণ-অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্পেন সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। সমুদ্র সীমানা বরাবর ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন কন্টেইনমেন্ট বেরিয়ার বা নিয়ন্ত্রণ প্রাচীর স্থাপনের পরিকল্পনা করছে মাদ্রিদ। এই অবকাঠামোটি অবৈধ উপায়ে ভূখণ্ডে প্রবেশ রুখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এই সংকট কেবল স্পেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সামগ্রিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইইউ-এর অধিকাংশ সদস্য দেশ জোটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে।
সেউটার এই ঘটনা মরক্কো ও স্পেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে শহরটিতে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে যাতে দ্বিতীয় দফায় আর কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
