কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারের পর লড়াকু নারীর মৃত্যু
কলম্বিয়ার পেরেইরা শহরে সোমবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ৩৭ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল দানিয়েলা লারগোকে। তবে দেশবাসীর প্রার্থনা বিফলে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

এক নজরে
- ৩৭ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকার পর লারগোকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
- পেরেইরা শহরে উদ্ধার অভিযানের সময় তিনি আশার প্রতীকে পরিণত হন।
- হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩২ বছর বয়সী এই নারীর মৃত্যু হয়।
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরা থেকে একটি হৃদয়বিদারক সংবাদ পাওয়া গেছে। গত সোমবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া দানিয়েলা লারগোকে দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। ৩২ বছর বয়সী এই নারী কলম্বিয়ার মানুষের কাছে গত কয়েকদিন ধরে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
মঙ্গলবার উদ্ধারকর্মীরা যখন তাকে ধ্বংস্তূপের ভেতর থেকে বের করে আনেন, তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা উল্লাস ও করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। বিপর্যয়ের মাঝে এমন অলৌকিক উদ্ধার অভিযান পুরো জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ভারী পলেস্তারা ও কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে থাকায় তার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শহর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সোমবারের ওই ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত থাকলেও সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ততটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে। দানিয়েলার মৃত্যু শোকাতুর জাতির জন্য এক নতুন আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা প্রদান ও অবকাঠামো মেরামতের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে। দানিয়েলা লারগোর ঘটনাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
