কেরলে লেপটোস্পাইরোসিস মৃত্যুর উচ্চ হার: স্বাস্থ্য সংকটের নেপথ্যে কারণ কী?
দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে লেপটোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন এই নির্দিষ্ট রোগে মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা।

এক নজরে
- রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং প্রাথমিক চিকিৎসায় অবহেলা মৃত্যুহার বাড়াচ্ছে।
- বর্ষার পর জমা জল এবং আর্দ্র আবহাওয়া সংক্রমণের প্রধান উৎস।
- ঝুঁকিপূর্ণ পেশার মানুষদের জন্য ডক্সিসাইক্লিন প্রোফাইল্যাক্সিস গ্রহণের পরামর্শ।
কেরলে সাম্প্রতিক সময়ে লেপটোস্পাইরোসিস বা 'ইঁদুর জ্বর' একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রাজ্যের উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এই রোগে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়া চিকিৎসকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত বর্ষা পরবর্তী সময়ে কেরলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়া এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে সাধারণ জ্বর বলে অবহেলা করা এই উচ্চ মৃত্যুহারের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা যখন হাসপাতালে পৌঁছান, ততক্ষণে তাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
পশু এবং বিশেষ করে ইঁদুরের মূত্র থেকে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। কেরলে প্রচুর পরিমাণে নালা এবং জমা জল থাকায় এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কৃষিকাজ বা জমা জলের সংস্পর্শে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, কেরলের উচ্চ আর্দ্রতা এবং ঘন ঘন বন্যা এই ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়াও, অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে দেরি করা এবং সরাসরি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়ে ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
