‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ক: মোদীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন পি চিদম্বরম ও কিরেন রিজিজু
৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিমাগি নকশাল’ বা মনস্তাত্ত্বিক নকশালবাদ নিয়ে দেওয়া সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

এক নজরে
- ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে 'দিমাগি নকশাল' শব্দ ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
- পি চিদম্বরম নিজেকে পরিহাস করে 'দিমাগি নকশাল' হিসেবে দাবি করে সরকারের সমালোচনা করেন।
- মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পষ্ট করেছেন যে, এই মন্তব্য কেবল মাওবাদী সমর্থকদের জন্য প্রযোজ্য।
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাল কেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘দিমাগি নকশাল’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক নকশালবাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু মানুষ সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ শব্দচয়ন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম। তিনি পরিহাস করে বলেন, যদি দেশের জনগণের পক্ষে কথা বলা এবং অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ‘দিমাগি নকশাল’ হওয়া হয়, তবে তিনি নিজেকে এমন পরিচয় দিতে গর্বিত বোধ করেন। চিদম্বরমের মতে, এই ধরনের শব্দচয়ন মূলত ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল।
পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের ওপর প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ছিল না বলে দাবি করেন। রিজিজু স্পষ্টভাবে জানান, যারা মাওবাদী আদর্শকে সমর্থন করে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী চিন্তাধারা পোষণ করে, তাদের উদ্দেশ্যেই এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেমিক বিরোধী নেতাদের এতে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকারের এই আক্রমণ মূলত এমন এক বুদ্ধিজীবী শ্রেণির দিকে যাদের তারা রাষ্ট্রবিরোধী বলে মনে করে। তবে বিরোধীরা মনে করছে, সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং মানবাধিকার কর্মীদের কোণঠাসা করতেই এই ধরনের তকমা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বাকযুদ্ধ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
