ই২০ জ্বালানি বিতর্ক: গাড়ির মাইলেজ হ্রাস ও ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগ তুঙ্গে
ভারতে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ বা ই২০ জ্বালানি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল শিল্প সমর্থন দিলেও, সাধারণ চালকরা মাইলেজ কমা এবং পুরনো ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এক নজরে
- ভারতে ই২০ লক্ষ্যমাত্রা সময়ের আগে অর্জন হলেও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ছে অসন্তোষ।
- গাড়ি ব্যবহারকারীদের দাবি, উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রণের কারণে মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।
- পুরনো ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব ও যন্ত্রাংশের ক্ষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভারত সরকার পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ বা ই২০ (E20) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করেছে। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে এখন দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে গাড়ি নির্মাতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকরা বাস্তব জীবনে জ্বালানি সাশ্রয় কমে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।
গ্রাহকদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো মাইলেজ হ্রাস। সরকারি গবেষণায় এই প্রভাবকে নগণ্য বলে দাবি করা হলেও, অনেক যানবাহন ব্যবহারকারী লক্ষ্য করেছেন যে ১০ শতাংশ মিশ্রণ (E10) থেকে ২০ শতাংশে আসার পর গাড়ির ফুয়েল এফিসিয়েন্সি বা মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে জ্বালানি খরচ আগের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
দ্বিতীয় বড় দুশ্চিন্তা হলো ইঞ্জিনের স্বাস্থ্য। বিশেষ করে পুরনো মডেলের গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে ইথানলের উচ্চমাত্রা ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইথানল ধাতব এবং প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশের ক্ষয় ত্বরান্বিত করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়িয়ে দেবে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক বিশেষজ্ঞ এবং ভোক্তা অধিকার কর্মী ভারতের তেল পাম্পগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। যেখানে জ্বালানির ধরন নির্বাচনের স্বাধীনতা নেই, সেখানে গ্রাহকদের জন্য বিকল্প 'পিওর পেট্রোল' রাখার দাবিও উঠতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে ইথানল মিশ্রণের মাত্রা আরও বাড়ানোর আলোচনার মধ্যে এই বিতর্ক নয়া রূপ নিচ্ছে।
