ফিফা প্রধানের ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠতা: বিশ্ব ফুটবলে বিতর্ক ও ভাবমূর্তি সংকটের আশঙ্কা
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ফুটবল মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনীতির সঙ্গে ফুটবলের এই ভারসাম্য রক্ষা করা ইনফান্তিনোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক নজরে
- ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে ফুটবল বিশ্বে উদ্বেগ।
- রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ফিফার জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
- ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ কর্মকর্তারা।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। এই মেগা ইভেন্টকে সামনে রেখে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক কৌশলী অবস্থান ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে খোদ ফিফার ভেতরেই শুরু হয়েছে কানাঘুষা।
ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে ফিফা সবসময়ই নিজেদের রাজনীতিমুক্ত দাবি করে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সুনজরে থাকার জন্য যে ধরনের তৎপরতা দেখাচ্ছেন, তা সংস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। হোয়াইট হাউসের সাথে সুসম্পর্ক রাখা বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের জন্য জরুরি হলেও, এটি ব্যক্তিগত স্তরে চলে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, ফিফার কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ মনে করেন যে, ট্রাম্পের প্রতি এই বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ফিফার গ্রহণযোগ্যতা কমতে পারে। ফুটবলের বৈশ্বিক আবেদনের পরিবর্তে এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষ করে মানবাধিকার এবং অভিবাসন ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের সাথে ফিফার আদর্শের সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। এমন অবস্থায় ইনফান্তিনো যদি ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে গিয়ে অন্য দেশগুলোর সমর্থন হারান, তবে সেটি ২০২৬ বিশ্বকাপের সাফল্যের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো কি পারবেন বিশ্ব ফুটবল সংস্থাকে এই রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ থেকে বাইরে রেখে সফল একটি বিশ্বকাপ উপহার দিতে? সারা বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীরা এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।
