তীব্র খরায় বিপাকে হাঙ্গেরি: পানির অভাবে বন্ধ হচ্ছে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

দানিয়ুব নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় হাঙ্গেরি তাদের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিয়াক্টর শীতলীকরণে সংকট দেখা দেওয়ায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
02 Aug 2026, 08:00
Updated
02 Aug 2026, 08:00
Reading time
2 min
তীব্র খরায় বিপাকে হাঙ্গেরি: পানির অভাবে বন্ধ হচ্ছে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • দানিয়ুব নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় পারমাণবিক কেন্দ্রটি ঝুঁকির মুখে।
  • রিয়াক্টর শীতলীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
  • দেশটির মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই কেন্দ্রটি থেকে আসে।

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র খরা ও দাবদাহের ফলে হাঙ্গেরির জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দানিয়ুব নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল, যা রিয়াক্টরগুলোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

হাঙ্গেরির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে, যা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। পারমাণবিক কেন্দ্রটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ সরবরাহ করে, তাই এটি বন্ধ হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে শুধু হাঙ্গেরি নয়, আশেপাশের দেশগুলোর অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নৌ-চলাচল থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন—সবই এখন বাধার সম্মুখীন। পরিবেশবিদরা বলছেন, আগামীতে এ ধরণের সংকট আরও ঘন ঘন হতে পারে।

হাঙ্গেরির জ্বালানি মন্ত্রণালয় বর্তমানে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছে। একইসাথে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে শীতকালীন চাহিদার আগে এই সংকট সমাধান না হলে দেশটি বড় ধরণের বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।