দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনছেন ট্রাম্প, নেপথ্যে কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নিয়মিত সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এক নজরে
- কিম জং উনের সাথে সম্পর্কের খাতিরে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের।
- যৌথ মহড়াকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট।
- পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সিউলের সাথে দূরত্ব বাড়ছে ওয়াশিংটনের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রচলিত যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, এই বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলাকালীন এ ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা বন্ধ রাখা জরুরি। উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই মহড়াগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে, যা কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
ওয়াশিংটন এবং সিউলের মধ্যে কয়েক দশকের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ইতিহাসে এটি একটি বড় বিচ্যুতি। যদিও ট্রাম্প একে একটি অর্থ সাশ্রয়ী এবং কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন, তবে অনেক বিশেষজ্ঞ একে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা বলয়ে ফাটল হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এতে করে এই অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
অন্যদিকে, পিয়ংইয়ং এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। কিম জং উনের সাথে সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনামের সম্মেলনের পর থেকেই ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির কথা বলে আসছেন। তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
