বিচারপতি নিয়োগে অস্বচ্ছতা: সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম ব্যবস্থার সমালোচনা বিচারপতি ভূঁইয়ার
সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম ব্যবস্থায় বিচারক নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি, যা জনস্বার্থ বিরোধী হতে পারে।

এক নজরে
- কলেজিয়াম ব্যবস্থায় কারণ ছাড়াই বিচারক নিয়োগ ও বদলির সমালোচনা করেছেন বিচারপতি ভূঁইয়া।
- অস্বচ্ছতার কারণে অযোগ্য ব্যক্তিরা বিচার বিভাগে প্রবেশ করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ।
- বিচার বিভাগীয় পদোন্নতির তথ্য জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য প্রচলিত কলেজিয়াম ব্যবস্থার গোপনীয়তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। সম্প্রতি একটি জনসমক্ষে আসা প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পদ্ধতিতে সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো যুক্তি বা কারণ জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না।
বিচারপতি ভূঁইয়ার মতে, এই ধরনের অস্বচ্ছতা বিচার বিভাগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকলে অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের উচ্চতর বিচার আসনে বসার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
ভারতের সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তি দেন যে, বিচারকদের পদোন্নতি এবং বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কেন নেওয়া হচ্ছে, তা জানার অধিকার সাধারণ জনগণের রয়েছে। তথ্যের এই লুকোচুরি বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জলদি (JALDI) নামক একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টেও ভারতের বিভিন্ন উচ্চ আদালতে স্বচ্ছতার ভিন্ন ভিন্ন স্তরের কথা উঠে এসেছে। বিচারপতি ভূঁইয়া এই রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে কলেজিয়াম ব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্য ভারতের বিচার বিভাগে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
