ভ্যান্সের মন্তব্যের প্রতিত্তর দিলেন নেতানিয়াহু; ভারতের অকুন্ঠ সমর্থনের কথা উল্লেখ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের একমাত্র মিত্র হিসেবে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করলে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভারতের 'প্রচণ্ড' সমর্থনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাল্টা মত প্রকাশ করেন।

এক নজরে
- জেডি ভ্যান্সের 'একমাত্র মিত্র' দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
- ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সমর্থনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর।
- পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে ভারতের কৌশলগত বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক মিত্রতা নিয়ে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভ্যান্স দাবি করেন যে, ইসরায়েলের একমাত্র প্রকৃত মিত্র হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেছেন।
নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল বৈশ্বিক মঞ্চে একা নয়। তিনি বিশেষভাবে ভারতের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ এবং এর ১৪০ কোটি মানুষের কাছ থেকে ইসরায়েল 'প্রচণ্ড' সমর্থন পাচ্ছে। এই বক্তব্যটি মূলত ভ্যান্সের আমেরিকার একচেটিয়া মিত্রতার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ভারতের সাথে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও জনতাত্ত্বিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে। ভারতের সাথে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গত এক দশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা এখন প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন ইসরায়েলি নেতৃত্ব।
ভ্যান্সের মন্তব্যটি মূলত মার্কিন অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে আমেরিকান ভোটারদের তুষ্ট করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু ভারতের প্রসঙ্গ টেনে বুঝিয়ে দিলেন যে, প্রাচ্যের শক্তিগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক এখন আর গৌণ নয়। এটি মূলত একটি বহুমুখী কূটনৈতিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের আবহে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং মানবিক সহায়তার প্রশংসা এর আগেও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কণ্ঠে শোনা গেছে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকে নেতানিয়াহু তার দেশের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এই পাল্টা বক্তব্য কেবল জেডি ভ্যান্সকেই নয়, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়কেও একটি বার্তা দিয়েছে। ইসরায়েল তার বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল পশ্চিমের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং ভারতের মতো নতুন এবং শক্তিশালী অংশীদারদের গুরুত্ব দিচ্ছে সমানভাবে।
