ফিজি ও অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত; মেটা-র বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত
আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ফিজির সাথে ‘ভুvale’ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী এক তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছে।

এক নজরে
- অস্ট্রেলিয়া ও ফিজির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ‘ভুvale’ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- ইহুদিবিদ্বেষ ও উগ্রপন্থা রুখতে মেটা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার কথা প্রকাশ করেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের পর ফিজির সঙ্গে এই চুক্তি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার শক্তি বৃদ্ধি করবে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব ও নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া এবং ফিজি। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ফিজির সাথে এই 'ভুvale' (Vuvale) চুক্তিতে সই করেন, যা মূলত দুর্যোগ মোকাবিলা, সামরিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।
এই নতুন চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়ার ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের একটি অংশ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড এবং পাপুয়া নিউ গিনির সাথে ক্যানবেরার একই ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সমঝোতা রয়েছে। ফিজির সাথে এই ঘনিষ্ঠতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে ওশেনিয়া অঞ্চলের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা একটি রাজকীয় কমিশনের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে, তারা সামাজিক প্ল্যাটফর্মে চলমান উগ্রবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে নির্দিষ্ট কিছু 'জায়োনিস্ট' পোস্ট ও শব্দ নিষিদ্ধ করেছেন।
তবে মেটার এমন সেন্সরশিপ নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক একে ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়ানো বন্ধের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, সমালোচকরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্ক তুলছেন। রাজকীয় কমিশন বর্তমানে মেটার ডেটা এবং মডারেশন পলিসি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকার নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধী পক্ষ এবং সংবাদমাধ্যমগুলো তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করছে, যা ক্যানবেরার রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে আজকের দিনটি অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
