খামেনির শেষকৃত্য বর্জন করতে বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন চাপের অভিযোগ
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যে যোগদান থেকে বিরত থাকতে বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ১৩টি দেশ তাদের অংশ গ্রহণ বাতিল বা সীমিত করেছে বলে সংবাদে দাবি করা হয়েছে।

এক নজরে
- কূটনৈতিক চাপে ১৩টি দেশ অংশগ্রহণ বাতিল বা সীমিত করেছে বলে অভিযোগ।
- উন্নয়ন সহায়তায় কাটছাঁটের প্রচ্ছন্ন হুমকির কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
- আগামী ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে একটি ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচার চালিয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ওয়াশিংটন বেশ কিছু দেশকে এই অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে সরাসরি অনুরোধ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের মুখে অন্তত ১৩টি দেশ তাদের পূর্বনির্ধারিত অংশগ্রহণ বাতিল করেছে অথবা তাদের প্রতিনিধি দলের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। অনেক দেশের জন্য এই চাপ মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে লক্ষ্য করে এই চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহায়তায় কাটছাঁট এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার শর্তাবলী পরিবর্তনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশগুলোকে জানানো হয়েছিল যে, খামেনির শেষকৃত্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠানোকে ইরানের প্রতি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানে খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠান অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৯ জুলাই তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে পুনরায় সামনে তুলে এনেছে। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক এই কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
