কৃষকদের স্বার্থে গোদাবরীর পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছে তেলেঙ্গানা সরকার
তেলেঙ্গানার সেচ মন্ত্রী উত্তম কুমার রেড্ডি আশ্বস্ত করেছেন যে কৃষকদের সুবিধার্থে গোদাবরী নদীর পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সাথে তিনি ইয়েলামপল্লী প্রকল্পের পানি নিয়ে বিরোধীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এক নজরে
- গোদাবরী নদীর পানি কৃষকদের কল্যাণে ব্যবহারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ঘোষণা।
- ইয়েলামপল্লী প্রকল্পের পানি নিয়ে বিরোধীদের কালেশ্বরম দাবির কঠোর প্রতিবাদ।
- কংগ্রেস আমলে নির্মিত সেচ প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতার ওপর গুরুত্বারোপ।
তেলেঙ্গানা রাজ্যের সেচ মন্ত্রী উত্তম কুমার রেড্ডি সম্প্রতি মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে রাজ্যের প্রধান সেচ প্রকল্পগুলোতে পানির প্রবাহ পর্যালোচনা করেছেন। এই পর্যালোচনায় শ্রীধর বাবু, বিবেক এবং লক্ষ্মণ কুমারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল চলমান কৃষি মৌসুমে কৃষকদের পানির চাহিদা মেটানো।
মন্ত্রী রেড্ডি জোর দিয়ে বলেন যে, কংগ্রেস সরকারের আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক সেচ প্রকল্পগুলো আজও রাজ্যকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বর্তমান সরকারের অবকাঠামোগত সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, পুরোনো প্রকল্পগুলোর সংস্কার ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেই কৃষি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, ইয়েলামপল্লী প্রকল্প থেকে পাম্প করা পানি কালেশ্বরম প্রকল্পের অংশ নয়। বিরোধীদের তোলা দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, প্রাকৃতিক প্রবাহ এবং বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমেই পানি বণ্টন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।
সেচ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন গোদাবরী অববাহিকার প্রতিটি বিন্দু পানির সঠিক হিসাব রাখা হয়। সরকারের লক্ষ্য হলো অপচয় কমিয়ে চাষাবাদের জন্য পানির প্রাপ্যতা বাড়ানো, বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে কৃষকদের জন্য সময়মতো পানি ছাড়ার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেচ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি।
পরিশেষে, রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা রাজনৈতিক প্রচারণার চেয়ে মাঠ পর্যায়ের উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেবে। কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির সুষম বণ্টনই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
