মানি লন্ডারিং তদন্তের জেরে ট্রাম্পের ৩০০ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল ক্যাপিটাল ওয়ান
২০২১ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কারণ হিসেবে মানি লন্ডারিং তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে মার্কিন ব্যাংক ক্যাপিটাল ওয়ান।

এক নজরে
- ক্যাপিটাল ওয়ান ট্রাম্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩০০টিরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।
- প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাংক ট্রাম্পের ব্যবসার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলেছে।
- ব্যাংকটি একে একটি নিয়মিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দাবি করেছে।
মার্কিন ব্যাংক ক্যাপিটাল ওয়ান ফিন্যান্সিয়াল সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা কেন ২০২১ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩০০টিরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছিল। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ মানি লন্ডারিং তদন্তে সন্দেহজনক কিছু পাওয়ার পর তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল।
এটি প্রথমবার যখন কোনো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসার সাথে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের উদ্বেগকে যুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর এক বড় ধরণের নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ক্যাপিটাল ওয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এই সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং ব্যাংকিং নীতিমালা এবং ফেডারেল আইন প্রতিপালনের জন্যই তারা গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক মহলে এটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প যখন আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছেন, তখন তার ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অন্যান্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকে বর্তমানে ট্রাম্পের লেনদেন চালু রয়েছে, তারা এখন নতুন করে তাদের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে বাধ্য হবে।
পুরো বিষয়টি এখন আইনি পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার চেয়ে আইনি সুরক্ষা যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
