যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় ফাঁকি: সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণে হাজারো মানুষ অসুস্থ
আমেরিকার বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সাইক্লোস্পোরা নামক এক রহস্যময় পরজীবী। হাজার হাজার মানুষের অসুস্থতার পেছনে দায়ী এই জীবাণু শনাক্তে এফডিএ-র সীমাবদ্ধতা এখন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক নজরে
- সাইক্লোস্পোরা পরজীবী শনাক্তে এফডিএ-র বর্তমান ব্যবস্থার ব্যর্থতা উন্মোচিত হয়েছে।
- হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক দূষিত কাঁচা পণ্যের মাধ্যমে গুরুতর পেটের পীড়ায় আক্রান্ত।
- সনাতন ক্লোরিন ভিত্তিক বিশুদ্ধিকরণ এই পরজীবীর বিরুদ্ধে কার্যকর নয় বলে প্রমাণিত।
যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সাইক্লোস্পোরা পরজীবীর সাম্প্রতিক সংক্রমণ তদারকি ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। গত কয়েক মাসে দেশটির কয়েক হাজার মানুষ এই বিশেষ পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন, যা সাধারণত দূষিত ফল বা সবজির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি এই জীবাণু শনাক্তে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
এফডিএ বা ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বর্তমান তদারকি কাঠামো মূলত ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ যেমন সালমোনেলা বা ই-কোলাই প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু সাইক্লোস্পোরা একটি এককোষী পরজীবী যা এই প্রচলিত প্রতিরক্ষা দেয়াল সহজেই ভেদ করতে সক্ষম। বিশেষ করে আমদানি করা কাঁচা পণ্যের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সাইক্লোস্পোরার জীবনচক্র এবং এর স্থায়িত্ব একে বিপজ্জনক করে তুলেছে। এটি প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং খুব অল্প পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলেও মারাত্মক অসুস্থতা সৃষ্টি করে। ওয়াশিংটন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্যগুলোতে রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা সরাসরি খাদ্য সরবরাহ চেইনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তদন্তে দেখা গেছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় পানির উৎসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পারছে না। যেহেতু এটি একটি পরজীবী, তাই সাধারণ ক্লোরিন দিয়ে পানি পরিষ্কার করলেও এটি নির্মূল হয় না। ফলে কৃষিজমি থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত এই জীবাণু পৌঁছে যাচ্ছে কোনো বাধা ছাড়াই।
বর্তমানে এফডিএ নতুন প্রযুক্তি এবং টেস্টিং প্রোটোকল নিয়ে কাজ করছে। তবে ল্যাবরেটরিতে দ্রুত শনাক্তকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত এই পরজীবীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে জনসাধারণের জন্য তাজা শাকসবজি ভালোমতো ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

