সুইডেনের আকাশে স্মৃতির নীলিমা: শৈশবের বন্ধুদের খুঁজে ফেরার আকুলতা

সুইডেন প্রবাসী রহমান মৃধার স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে শৈশবের অমলিন বন্ধুত্বের কথা। প্রযুক্তির কল্যাণে কয়েক দশকের বিচ্ছেদ ঘুচলেও ব্যস্ততার আবর্তে আবার হারিয়ে যাওয়ার সুর বেজে উঠেছে তাঁর লেখনীতে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
01 Aug 2026, 15:30
Updated
01 Aug 2026, 15:30
Reading time
2 min
সুইডেনের আকাশে স্মৃতির নীলিমা: শৈশবের বন্ধুদের খুঁজে ফেরার আকুলতা
মতামত · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • শৈশবের নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বকে জীবনের শ্রেষ্ঠ অদৃশ্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন লেখক।
  • প্রযুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বন্ধুদের সাথে পুনর্মিলন এবং তার পরবর্তী নীরবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
  • প্রবাস জীবনে বর্তমানের বাস্তবতা ও স্মৃতির দেশের মধ্যকার এক চিরন্তন টানাপোড়েনের গল্প।

সুইডেনের সুদূর প্রবাসে বসে যখন রহমান মৃধা জীবনের হিসাব মেলান, তখন তাঁর স্মৃতির জানালায় ভিড় করে বাংলাদেশের সেই সবুজ গ্রাম, নদীর ঘাট আর স্কুলের মাঠ। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ের মাঝেও তিনি অনুভব করেন, শৈশবের সেই অকৃত্রিম বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, নতুন বন্ধুত্ব হয়তো জীবনের প্রয়োজন মেটায়, কিন্তু শৈশবের বন্ধুত্ব হলো আত্মার ইতিহাস।

লেখকের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে আশির দশকের সেই দিনগুলো, যখন আড্ডার জন্য আধুনিক ক্যাফে বা স্মার্টফোনের প্রয়োজন ছিল না। খেলার মাঠ কিংবা ছাত্রাবাসের বারান্দাই ছিল সম্পর্কের প্রাণকেন্দ্র। কোনো স্বার্থ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করে কাটিয়ে দেওয়া সেই সময়গুলোই ছিল জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যা আজ মুদ্রার মানে পরিমাপ করা অসম্ভব।

প্রযুক্তির বিস্ময়কর শক্তি কীভাবে ৪০ বছর আগের বিচ্ছেদকে মুছে দিয়েছিল, লেখক সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পুরনো কণ্ঠস্বরগুলো যখন আবার বেজে ওঠে, তখন মনে হয় সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতার রুঢ়তায় সেই সংযোগ স্থায়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যস্ততা, শারীরিক অসুস্থতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার দেয়াল অনেক সময় সেই পুরনো বন্ধনগুলোকে আবার নীরব করে দেয়।

পরিশেষে লেখক এক গভীর জীবনদর্শনের কথা বলেছেন। মানুষ আসলে একই সাথে দুটি দেশে বাস করে—একটি তার বর্তমানের কর্মস্থল, আর অন্যটি তার স্মৃতির দেশ। স্মৃতির সেই দেশে শৈশবের বন্ধুরা লতার মতো জড়িয়ে থাকে। রহমান মৃধার এই স্মৃতিচারণা কেবল একজন প্রবাসীর আত্মকথা নয়, বরং যান্ত্রিক পৃথিবীতে হারিয়ে যাওয়া অকৃত্রিম মানবিক সম্পর্কের এক করুণ আর্তি।