ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের আইন নাকচ করল শীর্ষ আদালত

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ফরাসি সরকারের প্রস্তাবিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বয়সসীমা সংক্রান্ত আইনটি সাংবিধানিক আদালত বাতিল করে দিয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
15 Aug 2026, 19:01
Updated
15 Aug 2026, 19:01
Reading time
2 min
ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের আইন নাকচ করল শীর্ষ আদালত
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • আদালত মনে করে এই আইনটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
  • বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডাটা সুরক্ষা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
  • প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় নতুন করে সংশোধিত বিল আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফ্রান্সের সাংবিধানিক আদালত সম্প্রতি ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্রস্তাবিত আইন বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ এবং এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার সরকার শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল যাতে কিশোর-কিশোরীরা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।

আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করার জন্য যে ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, তা সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল গোপনীয়তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এছাড়া তথ্যের অবাধ প্রবাহের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে আদালত মনে করে।

এই আইনি ধাক্কার পরও ফরাসি সরকার হাল ছাড়ছে না। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আইনের খসড়ায় পরিবর্তন এনে একটি সংশোধিত বিল পাসের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য অনলাইন দুনিয়ায় শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য যে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে শিশুদের স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কুফল থেকে বাঁচাতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছে। ফ্রান্সের এই আদালতের রায় অন্যান্য দেশের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি নজির হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।