কর্ণাটকে সরকারি হাসপাতালে এপিএল কার্ডধারীদের জন্য সুলভ মূল্যে রক্ত সরবরাহের ঘোষণা
কর্ণাটক সরকার তাদের স্বাস্থ্যনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে দারিদ্র্যসীমার উপরে থাকা (এপিএল) রোগীরাও সরকারি হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে রক্ত পাবেন, যা আগে কেবল বিপিএল কার্ডধারীদের জন্য সীমিত ছিল।

এক নজরে
- এপিএল কার্ডধারীরা এখন সরকারি হাসপাতালে সুলভ মূল্যে রক্ত পাবেন।
- বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের উচ্চমূল্যের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে সাধারণ মানুষ।
- জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
কর্ণাটক রাজ্য সরকার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন থেকে এপিএল (Above Poverty Line) কার্ডধারী রোগীরাও ভর্তুকি মূল্যে রক্ত ও রক্তের উপাদান সংগ্রহ করতে পারবেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, কর্ণাটকের সরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলো থেকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে রক্ত পাওয়ার সুবিধা মূলত বিপিএল (Below Poverty Line) কার্ডধারী রোগীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এপিএল কার্ডধারী রোগীদের বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হতো, যেখানে খরচ ছিল অনেক বেশি। বর্তমান সরকারের এই নীতি পরিবর্তনের ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি পাবে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, প্রসেসিং ফি বা প্রক্রিয়াকরণ ফি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট এবং স্বল্প পরিমাণ অর্থ জমা দিয়ে এপিএল রোগীরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই ফি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম রাখা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো জরুরি অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার সময় রক্তের অভাব এবং উচ্চমূল্যের কারণে যেন কোনো রোগী ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
তবে এই সুবিধা পেতে রোগীদের সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা এই ভর্তুকি সুবিধার আওতায় আসবেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে। মূলত থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, রক্তের প্রাপ্যতা সহজলভ্য করা হলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং স্বাস্থ্য সেবার বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করবে।
