পেন্টাগনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদরদপ্তর এখন মিশরের 'অক্টাগন'

মিশর তাদের নতুন রাষ্ট্রীয় কৌশলগত কমান্ড সদরদপ্তর 'অক্টাগন' উদ্বোধন করেছে। প্রায় ২২,০০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদরদপ্তরে পরিণত হয়েছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 05:01
Updated
06 Jul 2026, 05:01
Reading time
2 min
পেন্টাগনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদরদপ্তর এখন মিশরের 'অক্টাগন'
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • ২২,০০০ একর জমিতে নির্মিত মিশরের 'অক্টাগন' বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক সদরদপ্তরে পরিণত হয়েছে।
  • এটি মিশরের জাতীয় কমান্ড, গোয়েন্দা বিভাগ এবং সামরিক অপারেশনসকে কেন্দ্রীভূত করবে।
  • স্থাপনাটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সজ্জিত যা দ্রুত সংকটে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

মিশরীয় সামরিক সক্ষমতার নতুন যুগে প্রবেশ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সম্প্রতি উদ্বোধন করেছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং অত্যাধুনিক সামরিক সদরদপ্তর, যা ‘অক্টাগন’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি মূলত মিশরের নতুন প্রশাসনিক রাজধানীর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই সুবিশাল কমপ্লেক্সটি প্রায় ২২,০০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের চেয়েও বহুগুণ বড়। নকশাটি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এর আটটি বাহু মিশরের আটটি সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখাকে প্রতিনিধিত্ব করে। এটি মূলত একটি রাষ্ট্রীয় কৌশলগত কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করবে।

অক্টাগনের মূল লক্ষ্য হলো মিশরের সামরিক নেতৃত্ব, অপারেশনাল কমান্ড এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমকে একটি কেন্দ্রীয় ছাতার নিচে নিয়ে আসা। আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এই স্থাপনার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা এবং যেকোনো জাতীয় সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

প্রেসিডেন্ট আল-সিসি এই প্রকল্পটিকে একটি 'বিমূর্ত জাতীয় অট্টালিকা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং মিশরের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়। উন্নত ডেটা সেন্টার এবং যোগাযোগের পরিকাঠামো এই স্থাপনাকে বিশ্বমানের করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে মিশর মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় তার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছে। পেন্টাগনকে আয়তনে ছাড়িয়ে গিয়ে মিশর এখন বিশ্বের প্রতিরক্ষ মানচিত্রে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।