তামিলনাড়ুর পালার নদীতে অক্সিজেনের অভাবে বিপুল পরিমাণ মাছের মৃত্যু
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের আম্বুরের কাছে পালার নদীতে অক্সিজেনের মাত্রা আকস্মিক হ্রাসের ফলে প্রচুর পরিমাণে 'জিলাপি' মাছ মারা গেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাব থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক নজরে
- আম্বুরের পালার নদীতে অক্সিজেনের স্বল্পতায় হাজার হাজার মাছের মৃত্যু হয়েছে।
- শিল্প বর্জ্য ও পানির স্তর নেমে যাওয়াকে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তদন্তের জন্য পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে।
তামিলনাড়ুর ভেলোর জেলার আম্বুর শহরের পার্শ্ববর্তী পালার নদীতে হাজার হাজার মৃত মাছ ভেসে ওঠার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে নদীর একটি নির্দিষ্ট অংশে প্রচুর পরিমাণ 'জিলাপি' মাছ বা তেলাপিয়া জাতীয় মাছ মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দ্য হিন্দুর বরাতে জানা যায়, পানির উপরিভাগে সাদা ফেনার মতো আস্তরণ দেখা দেওয়ায় পরিবেশ দূষণের প্রাথমিক লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ফলেই এই গণহারে মাছের মৃত্যু ঘটেছে। গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ফলে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ট্যানারি বা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থেকে নির্গত অপরিশোধিত বর্জ্য এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, রাতের আঁধারে কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান সরাসরি নদীতে রাসায়নিক মিশ্রিত পানি ছেড়ে দেয়। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থান নষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সংলগ্ন এলাকার জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মৎস্যজীবীরা এই ঘটনায় চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্ট আসার পর মাছের মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন নদী থেকে মৃত মাছগুলো সরানোর কাজ শুরু করেছে যাতে পানি আরও বেশি দূষিত না হয়।
