মালিতে বিদ্রোহী হামলায় হুমকির মুখে টিমবুক্টু: সংকটে সামরিক জান্তা

মালির উত্তরাঞ্চলে জেএনআইএম এবং টিয়ারেগ বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় দেশটির সামরিক জান্তা এক ভয়াবহ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ঐতিহাসিক শহর টিমবুক্টুর পতন নিয়ে ঘনিয়ে আসছে আশঙ্কা।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 06:31
Updated
06 Jul 2026, 06:30
Reading time
2 min
মালিতে বিদ্রোহী হামলায় হুমকির মুখে টিমবুক্টু: সংকটে সামরিক জান্তা
আন্তর্জাতিক · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • জেএনআইএম এবং টিয়ারেগ বিদ্রোহীদের জোরালো হামলায় মালির সেনাবাহিনী পিছু হটছে।
  • ঐতিহাসিক শহর টিমবুক্টুর ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার হুমকি দিচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
  • বিদেশি সহায়তা সত্ত্বেও দেশের উত্তরাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বর্তমান সামরিক জান্তা।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জঙ্গি গোষ্ঠী জেএনআইএম (JNIM) এবং তাদের সহযোগী টিয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এফএলএ (FLA) উত্তর আফ্রিকার কৌশলগত বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এই সমন্বিত আক্রমণ মালির বর্তমান সামরিক সরকারের জন্য গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিদ্রোহীরা দেশের উত্তরাঞ্চলে মালিয়ান সেনাবাহিনীর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক শহর টিমবুক্টুর আশেপাশে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরটির নিয়ন্ত্রণ জান্তা সরকারের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই এলাকাটি কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১২ সাল থেকেই মালিতে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। বর্তমান সামরিক জান্তা বিদেশি বাহিনী, বিশেষ করে ফরাসি সেনাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার পর রাশিয়ার ওয়াগনার গোষ্ঠীর সহায়তা নিলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। বরং বিদ্রোহীদের নতুন এই জোট সেনাবাহিনীর জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর মালিতে জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এখন সুতোয় ঝুলে আছে। জেএনআইএম এবং এফএলএ-র মতো গোষ্ঠীগুলোর এই সমন্বয় প্রমাণ করে যে তারা কেবল গেরিলা আক্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ শহর দখলের সক্ষমতা অর্জন করেছে। টিমবুক্টুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের পতন হলে তা মালির সার্বভৌমত্বের ওপর বড় ধরণের আঘাত হবে।

বর্তমানে মালির সামরিক জান্তা কোনো জোরালো পাল্টা আক্রমণ বা কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মহল নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যেখানে মানবিক সংকটের আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। উত্তর মালির সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকির মুখে।