মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে নিরাপত্তা বেষ্টনী: 'সুপার এমার্জেন্সি'র অভিযোগ তৃণমূলের

বারুইপুর সফরের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা। একে গৃহবন্দি করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
06 Jul 2026, 02:47
Updated
06 Jul 2026, 02:46
Reading time
2 min
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে নিরাপত্তা বেষ্টনী: 'সুপার এমার্জেন্সি'র অভিযোগ তৃণমূলের
রাজনীতি · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • বারুইপুর সফরের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী।
  • তৃণমূল কংগ্রেস এই পরিস্থিতিকে 'সুপার এমার্জেন্সি' এবং গৃহবন্দি করার চেষ্টার সাথে তুলনা করেছে।
  • নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি-র ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে শাসক দল।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর আকস্মিক তৎপরতায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বারুইপুরে একটি মর্মান্তিক অপরাধের খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তাঁর যাত্রার আগেই বাসভবনের সামনে বিশাল নিরাপত্তা প্রহরা মোতায়েন করা হয়।

তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে অভিহিত করেছে। দলের পক্ষ থেকে একে একটি 'সুপার এমার্জেন্সি' বা চরম জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। শাসক দলের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়ে পরোক্ষভাবে তাকে গৃহবন্দি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অভিযোগ তুলছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থা বা নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধরনের অতি-তৎপরতা রাজনৈতিক স্বার্থে করা হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী কি মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবেন না? এই ঘেরাও পরিস্থিতিকে তারা সংবিধানের অবমাননা বলে দাবি করছেন।

একইসঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিকেও (বিজেপি) আক্রমণ করেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্রদের দাবি, বিজেপি নারী সুরক্ষার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার পরিবর্তে বিরোধী পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও তৃণমূল অভিযোগ করে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা মোতায়েনকে একটি প্রথাগত ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখনও বিশদ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বারুইপুর সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও, তৃণমূল কর্মীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তারা বিষয়টিকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।