কাজিরাঙার 'অরণ্য যোদ্ধা' জয়মালার জীবনাবসান: পাহারার দায়িত্ব থেকে চিরবিদায়
আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের অন্যতম আইকনিক হাতি 'জয়মালা' মারা গেছেন। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে উদ্যানের নিরাপত্তা ও টহলদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই হস্তিনীর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

এক নজরে
- ১৯৯২ সাল থেকে কাজিরাঙার বন বিভাগে 'জঙ্গল যোদ্ধা' হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন জয়মালা।
- দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে গন্ডার সংরক্ষণ ও টহলদারিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।
- ৬৫ বছর বয়সে এই হস্তিনীর চিরবিদায় কাজিরাঙার ইতিহাসে একটি শোকবহ ঘটনা।
ভারতের আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। উদ্যানের অন্যতম বিশ্বস্ত এবং দক্ষ টহল হাতি 'জয়মালা' বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছে। ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া এই হস্তিনীটি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় আমৃত্যু লড়াই করে গেছে।
জয়মালা ১৯৯২ সালে কাজিরাঙার বন বিভাগে একজন 'জঙ্গল যোদ্ধা' হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি বনরক্ষীদের সাথে দুর্গম এলাকায় টহল দেওয়া এবং চোরাশিকারিদের হাত থেকে গন্ডার ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী রক্ষা করার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার অসীম ধৈর্য এবং সাহসিকতা বনকর্মীদের কাছে তাকে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল।
কর্মজীবনে জয়মালা অসংখ্য উদ্ধার অভিযান এবং নিরাপত্তা তদারকিতে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। বন্যার সময়ে যখন কাজিরাঙার বিশাল এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেত, তখন দুর্গত বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তার বিদায়কে কাজিরাঙা কর্তৃপক্ষ একটি বিশাল শূন্যতা হিসেবে অভিহিত করেছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে শেষ বিদায় জানানোর সময় গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের মতে, জয়মালা কেবল একটি হাতি ছিল না, বরং সে ছিল কাজিরাঙার গর্ব এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক প্রতীক। তার ৩৪ বছরের একনিষ্ঠ সেবা আগামী দিনের বনকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
