কেরালার কোট্টায়ামে ভারী বর্ষণে বিধ্বংসী ভূমিধস ও বন্যা, তিনজনের মৃত্যু
ভারতের কেরালা রাজ্যের কোট্টায়াম জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শিশুসহ অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৩২৭ জন বাসিন্দাকে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এক নজরে
- কোট্টায়ামে বন্যা ও ভূমিধসে শিশুসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু।
- জেলায় ১০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, যেখানে ৩২৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
- কাঞ্জিরাপল্লী তালুক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে ৬টি ক্যাম্প কার্যকর রয়েছে।
ভারতের দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্য কেরালার কোট্টায়াম জেলায় ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুমে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে প্রকৃতি। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস এবং নদ-নদীর পানি উপচে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ১১ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোট্টায়াম জেলার অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কাঞ্জিরাপল্লী তালুকের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভূমিধসের ফলে পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা উদ্ধারকাজকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে পুরো জেলাজুড়ে ১০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, যেখানে গৃহহীন হয়ে পড়া ৩২৭ জন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাঞ্জিরাপল্লী তালুকেই ছয়টি শিবির স্থাপন করা হয়েছে, কারণ এই এলাকাটি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে এবং বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
