চেংডুতে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে চীন: হাসপাতাল ও স্কুলেও গোয়েন্দাগিরি
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর চেংডুতে ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি দপ্তরে কর্মরতদের বিশ্বাসের খুঁটিনাটি যাচাই করছে কমিউনিস্ট পার্টি।

এক নজরে
- চেংডুর হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
- সরকারি কর্মীদের কাছ থেকে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকারনামা সংগ্রহ।
- চীনের 'সিনিসাইজেশন' নীতির অংশ হিসেবে এই নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চীনের সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংডুতে নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর সরকারি নজরদারির পরিধি ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর কমিউনিস্ট পার্টির চাপ ক্রমেই বাড়ছে, যা এখন হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সেবামূলক খাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং এমনকি চিকিৎসা কর্মীদেরও এখন তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং প্রার্থনার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হচ্ছে যে তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত থাকবেন না বা প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালন করবেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে চীন সরকার 'সিনিসাইজেশন' বা ধর্মকে চীনা সমাজতন্ত্রের আদলে সাজানোর যে নীতি গ্রহণ করেছে, এটি তারই অংশ। এর মাধ্যমে মূলত বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে নিবন্ধিত নয় এমন ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি এখন চরমে।
স্থানীয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং উপাসনার মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগ তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। আন্তর্জাতিক মহলে চীনের এই কঠোর নীতির সমালোচনা থাকলেও বেইজিং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছে।
