ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে রাঁচিতে বিক্ষোভের মুখে সরকার

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া এবং নিয়োগে বিলম্বের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। রাঁচির এই আন্দোলন বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

বা
বাংলাদেশ আজকাল ডেস্ক
Newsroom
Published
18 Aug 2026, 01:45
Updated
18 Aug 2026, 01:45
Reading time
2 min
ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে রাঁচিতে বিক্ষোভের মুখে সরকার
মতামত · ছবি: বাংলাদেশ আজকাল

এক নজরে

  • নিয়োগ পরীক্ষার ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া ও বিলম্বের অভিযোগে রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ।
  • জেপিএসসি ও জেএসএসসি-এর কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
  • প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দ্য হিন্দু-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অভিযোগ করছেন যে, সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং প্রায়ই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগ স্থগিত থাকছে।

বিক্ষোভকারীরা বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর কার্যক্রমের সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত বিরতিতে পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের কোনো সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার নেই। এর ফলে রাজ্যের বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কেবল প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় সীমাবদ্ধ নয়; তারা বর্তমান নির্বাচন-কেন্দ্রিক রাজনীতির শিকার হচ্ছেন বলেও মনে করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে ব্যবহার করলেও ক্ষমতায় গিয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। রাঁচির রাজপথে এই বিক্ষোভ এখন কেবল সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে কাঠামোগত দুর্বলতা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে এই ক্ষোভ প্রশমিত হওয়া কঠিন। সরকার ও কমিশনকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ত্রুটিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অন্যথায়, এই আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।