স্যান্ডউইচের চেয়েও কম আইনি নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ম্যাক্স টেগমার্কের উদ্বেগ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্যান্ডউইচের মতো সাধারণ খাদ্যদ্রব্যের চেয়েও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেক শিথিল বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত ফিউচারিস্ট ম্যাক্স টেগমার্ক। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রযুক্তির এই নিয়ন্ত্রণহীন অগ্রযাত্রার বিতর্কিত দিকটি।
এক নজরে
- যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য পণ্যের তুলনায় এআই নিয়ন্ত্রণের অভাব লক্ষ্যণীয় বলে মনে করেন ম্যাক্স টেগমার্ক।
- প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার ফলে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- এআই বিকাশের ক্ষেত্রে অবিলম্বে কঠোর আন্তর্জাতিক রেগুলেশন ও আইনি কাঠামো প্রয়োজন।
আধুনিক বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিস্তার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি আল জাজিরার 'দ্য বটম লাইন' অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রখ্যাত ফিউচারিস্ট এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ম্যাক্স টেগমার্ক এক চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্যান্ডউইচ তৈরির গুণমান বা নিরাপত্তার জন্য যে পরিমাণ কঠোর আইন বিদ্যমান, মানবজাতির ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখা এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই।
টেগমার্ক উল্লেখ করেন যে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকারগুলো খাদ্য ও ওষুধের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখে। অথচ একটি শক্তিশালী সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদম যা কি না গোটা সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, তা কোনো কার্যকর তদারকি ছাড়াই বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অসম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টরা বর্তমানে এআই রেসে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই প্রতিযোগিতার ভিড়ে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রায়ই গৌণ হয়ে পড়ছে। টেগমার্কের মতে, যথাযথ রেগুলেশন ছাড়া এআই-এর এই অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি মনে করেন, বড় কোম্পানিগুলোর মুনাফার স্পৃহা জননিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই-এর ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর অভাব কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রযুক্তির এই বিশাল ক্ষেত্রটি আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আসছে, ততক্ষণ এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির কোনো সহজ পথ নেই। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই অসম নীতিমালার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
