জৈশ যোগসাজশে যন্তর মন্তরে নাশকতার ছক, এসটিএফ-এর জালে আরও এক সন্দেহভাজন
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক নজরে
- দিল্লির যন্তর মন্তরে অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা নস্যাৎ করল এসটিএফ।
- সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিমের বান্ধবী অর্পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলতে 'হানি-ট্র্যাপ' ব্যবহারের অভিযোগ।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সাম্প্রতিক এক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামিম মণ্ডল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা গ্রহণ করত। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও উস্কানি দেওয়া হতো। অর্পিতা এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তকারী সংস্থা আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, অর্পিতা শুধুমাত্র হামিমের সহযোগী হিসেবেই কাজ করেনি, বরং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করে একটি 'হানি-ট্র্যাপ' বা ফাঁদ পাতার নেটওয়ার্কের সাথেও যুক্ত ছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এসটিএফ বর্তমানে এই চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে এবং আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছিল। হামিম ও অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েক দিনে এই ঘটনায় আরও কয়েকজন গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা কেন এবং কীভাবে করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথেও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
রাজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা এখন এসটিএফ-এর অন্যতম অগ্রাধিকার। সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে তরুণদের বিপথে চালিত করা হচ্ছে, তা নিয়েও সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
